চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

Mahalaya : মহালয়ায় দেবী দুর্গার চক্ষুদানের তাৎপর্য জানেন কি ?

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় :   ত্বং স্বাহা ত্বং স্বধা ত্বং হি বষট্‌কারঃ স্বরাত্মিকা

                                        সুধা ত্বমক্ষরে নিত্যে ত্রিধা মাত্রাত্মিকা স্থিতা ।।

 

আগামী মাসে অর্থাৎ, অক্টোবরের ২ তারিখেই মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসানের মধ্যে দিয়ে সূচনা হবে দেবীপক্ষের। আক্ষরিক অর্থে বলতে গেলে এই দিনই দুর্গা পূজার শুভারম্ভ। তারপর প্রতিপদ থেকে মহানবমী পর্যন্ত নয় দিনে পূজো চলবে দেবীর ন’টি রূপের। প্রতিপদে “শৈলপুত্রী”, দ্বিতীয়ায় “ব্রহ্মচারিণী”, তৃতীয়ায় “চন্দ্রঘণ্টা”, চতুর্থীতে “কুষ্মান্ডা”, পঞ্চমীতে “স্কন্দমাতা”, ষষ্ঠীতে “কাত্যায়নী”, সপ্তমীতে “কালরাত্রি”, অষ্টমীতে “মহাগৌরী” ও নবমীতে “সিদ্ধিদাত্রী’র” পুজো করা হয়। 

তবে পুরাণ থেকে রামায়ণ – মহাভারতে মহালয়া ঘিরে বর্ণিত আছে নানা কাহিনি। আর এই মহালয়ার সঙ্গে জড়িত একটি বিশেষ রীতি। এই বিশেষ দিনেই প্রথাগত ভাবে দেবী দুর্গার চক্ষুদান হয়ে থাকে। কিন্তু, কেন ? এই মহালয়াতেই চক্ষুদানের রীতি কেন পালিত হয় ?

মনে করা হয় দুর্গাপুজোর সূচনা হয় দেবীর চক্ষুদানের মাধ্যমেই। রামায়ণ অনুসারে শ্রী রাবণ বসন্ত কালে দেবী দুর্গার পুজো শুরু করেছিলেন, বাংলায় বর্তমানে যেটি বাসন্তী পুজো নামে পরিচিত।  আবার, রাবণের সাথে যুদ্ধ করতে যাওয়ার প্রাক্কালে শ্রী রাম অসময়ে অর্থাৎ শরৎকালে দেবীর পুজো করেন, যা অকালবোধন নামে পরিচিতি। জানা যায়, এরপর থেকেই যুগ যুগ ধরে শারদীয়া দুর্গাপুজো চলে আসছে। যেহেতু মহালয়ার দিন দেবীপক্ষের সূচনা হয়, তাই পরবর্তীকালে মহালয়ার দিনই প্রতিমার চক্ষু আঁকার চল অর্থাৎ চক্ষুদানের রীতি শুরু হয়। তবে আগেকার দিনে বিভিন্ন রাজবাড়ি কিংবা জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোতে মহাসপ্তমীর দিন পূজা মণ্ডপে নবপত্রিকা প্রবেশের পরেই দেবীর চক্ষুদান পর্ব হত। 

এরপর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী মহাষষ্ঠীতে মা দুর্গার বোধনের পর মহাসপ্তমীর সকালে শুদ্ধাচারে ডান হাতে কুশের অগ্রভাগ নিয়ে দেবী দুর্গাকে কাজল পরানো হয়। প্রথমে ত্রিনয়ন, তারপর মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে প্রথমে বাম চক্ষু ও তারপর ডান চক্ষু (গণেশ কার্তিক ইত্যাদী পুরুষ দেবতার ক্ষেত্রে প্রথমে দেন চক্ষু ও তারপর বাম চক্ষু) আঁকা হয় । পর্দায় ঢাকা ঘেরাটোপে তন্ত্রধারক ও পুরোহিতের উপস্থিতিতে লেলিহান মুদ্রায় মোট ১০৮ বার বীজমন্ত্র জপ করা হয়। এরপরেই মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ীতে রূপে প্রতিষ্ঠিত হন দেবী দুর্গা। তবে শুধু মা দুর্গার সাথে তাঁর চার ছেলে মেয়ে – লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিক না, এমনকী তাদের বাহনদেরও প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

দার্জিলিংয়ে হিমালয়ান রেলে চড়িয়ে মা দুর্গাকে রংবুলের বাংলো নদীতে নিরঞ্জন

লণ্ঠনের আলো দেখিয়ে উমাকে বিদায় সংখ্যালঘুদের, সম্প্রীতির ছবি মরা মহানন্দার ঘাটে

‘আসছে বছর আবার হবে’, বিষন্ন মন নিয়ে দশমীর রাতেও মণ্ডপে-মণ্ডপে হাজির দর্শনার্থীরা

দশমীতে হয় না বিসর্জন, উত্তরের চাষি পরিবারের কুটিরে ভান্ডানি রূপে বিশ্রাম নেবেন উমা

আবারও শুরু দিন গোনা! জেনে নিন আগামী বছরে দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট, কী কী বার থাকছে ছুটি?

প্রথা মেনেই ইছামতিতে বিসর্জন টাকি রাজবাড়ির দুর্গা প্রতিমার, নদীর পাড়ে ভিড় দুই বাংলার মানুষের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ