দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বঙ্গে এবার বিয়ে বিপ্লব, মাত্র ৫০০ টাকায় মালাবদল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘দুয়ারে সরকার’ আগেই পেয়ে গিয়েছে বাংলার মানুষকে(People of Bengal)। পাচ্ছেন তাঁরা ‘দুয়ারে ডাক্তার’ও। এবার তাঁরা পেতে চলেছেন ‘দুয়ারে বিয়ে’(Duyare Biye)। নাহ চমকে যাবেন না। সত্যি করেই বাংলার বিয়ের বাজারে বিপ্লব নিয়ে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। সারা রাজ্যে মাত্র ৫০০ টাকায় বিয়ে সম্পন্ন করার রাস্তা খুলে দিতে চলেছেন তিনি। এই ব্যবস্থায় রাজ্যের বাসিন্দা যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ ১৮ বছরের বেশি পাত্রী ও ২১ বছরের বেশি পাত্র গেলেই ফর্ম পূরণ করে বিয়ে করে নিতে পারবে। তাও একেবারে বাড়ির কাছেই। বাংলার প্রতিটি প্রতিটি জেলায় চার-পাঁচটি থানা এলাকার জন্য রয়েছে একটি করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস(Sub Registry Office)। এগুলি মূলত পরিচিত জমি-বাড়ি রেজিস্ট্রেশনের জন্যই। তবে এবার বিয়ের নিবন্ধীকরণও হবে এইসব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেই। সেই ব্যবস্থাই করতে চলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।    

আরও পড়ুন ‘জনমুখী’ এবং ‘জীবিকানির্ভর’ প্রকল্পগুলিতে বিশেষ গুরুত্ব রাজ্য বাজেটে

যুগ বদলেছে, মানুষের মানসিকতাও বদলাচ্ছে। এখন অচেনা মানুষের সঙ্গে জীবন কাটানোর কথা ভাবতেই পারে না দেশের বেশির ভাগ তরুণ-তরুণী। নিজের পছন্দের মনের মানুষের সঙ্গেই ঘর বাঁধতে চান তাঁরা। দেশজুড়ে তাই বাড়ছে প্রেম করে বিয়ে করার ধুম। সব বিয়েতেই যে বাড়ির লোকের মত মিলছে এমনটাও নয়। কবাড়i থেকে পালিয়ে বা নিজের ইচ্ছা মতো বিয়ে করার সংখ্যাটা কিন্তু গোটা দেশেই বেড়ে চলেছে। আর তাই Registry Marriage বাড়ছে দেশের পাশাপাশি বাংলার বুকেও। এখন রাজ্যের বিভিন্ন শহরে বিয়ের রেজিস্ট্রি করার লোক পাওয়া যায়। পাশাপাশি জেলা রেজিস্ট্রি অফিসেও বিয়ের নিবন্ধীকরণের ব্যবস্থা চালু আছে। পরিসংখ্যান বলছে রাজ্যে ক্রমশ বাড়ছে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধীকরণের সংখ্যা। চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে বিয়ের নিবন্ধীকরণের সংখ্যা ২০,৫৬১, যা গত বছরগুলির থেকে যথেষ্ট বেশি। শহর, শহরতলি তো বটেই, এমনকী গ্রামাঞ্চলেও বেড়েছে এই সংখ্যা। সব থেকে বেশি বিয়ের নিবন্ধীকরণ হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়, ৩৭০৫টি। তারপরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪-পরগনায়, ১৯০৩টি। তারপরে একে একে রয়েছে কলকাতা, হুগলি ও হাওড়া। পূর্ব মেদিনীপুর, নদীয়া, কোচবিহার, মালদহ, পূর্ব বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলাতেও এর সংখ্যা বেশ ভালো।

আরও পড়ুন বাংলার শস্যবিমা প্রকল্প আজ দেশের মডেল, ৭৪ লক্ষ কৃষক উপকৃত

একই সঙ্গে এটাও দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে নিজের ইচ্ছামতো বিয়ে করার সংখ্যাও কিন্তু বাড়ছে। বাড়র লোককে না জানিয়ে বিয়ে করে নিচ্ছে তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশই। এদের মধ্যে কারও কারও বাড়ির লোক পরে এই বিয়ে মেনে নিচ্ছে। কারও বা মানছে না। কিন্তু যেহেতু এই ধরনের বিয়ের সংখ্যা বাড়ছে তাই রাজ্যকেও ভাবতে হচ্ছে সেই সব বিয়েকে আইনত সিদ্ধ করার রাস্তা আরও বেশি করে খুলে দেওয়ার। সেই কারণেই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেও এই পরিষেবা চালু করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। রাজ্যে এখন প্রায় ২৫৯টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস রয়েছে। ইতিমধ্যে, ১১০টি অফিসে এই সুবিধা চালু হয়েছে। বাকিগুলিতেও এই মাসের মধ্যেই তা চালু হয়ে যাবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন House for All, সিউড়ি পুরসভাকে দুই দফায় ২১ কোটি

নবান্নের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রাররাও হলেন ম্যারেজ রেজিস্ট্রার। ফলে এঁরাও করতে পারেন বিয়ের নিবন্ধীকরণ। জেলার রেজিস্ট্রি অফিসে বা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে বিয়ের নিবন্ধীকরণে খরচ হয় মাত্র ৫০০ টাকা। এর মধ্যে ১০০ টাকা লাগে নোটিস খরচ বাবদ এবং বাকি ৪০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন খরচ। তবে, যদি কেউ চান সাব-রেজিস্ট্রার বাড়িতে বা বিবাহস্থলে গিয়ে তাঁদের বিয়ের নিবন্ধীকরণ করুন, তাহলে দিতে হয় অতিরিক্ত ৪০০ টাকা। আবার, দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা মানুষের জন্য একেবারে অর্ধেক হয়ে যায় এই খরচ। সম্পূর্ণ টাকাটাই জমা পড়ে রাজ্যের কোষাগারে। অথচ, অন্যান্য মাধ্যমে বিয়ের নিবন্ধীকরণ করতে সরকারি ফিয়ের পাশপাশি গুনতে হয় অতিরিক্ত বেশ কয়েক হাজার টাকা। রাজ্যে ২০১৯ সালের ১ জুন থেকে বিয়ের নিবন্ধীকরণের আবেদন করতে হচ্ছে অনলাইনে। এবার অনলাইনে আবেদন করে বাড়ির অদূরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পৌঁছলেই সম্পূর্ণ হবে চার হাত এক হওয়ার আইনি প্রক্রিয়া। সব থেকে বড় কথা সমপ্রেম বা সমলিঙ্গের বিয়েতে সুপ্রিম কোর্ট ছাড়পত্র দিলেই বাংলার এই সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেও কিন্তু বিয়ে সেরে ফেলতে পারবেন দুই পুরুষ বা দুই নারী।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে সাসপেন্ড ৫ পুলিশকর্তা, নজর নিরাপত্তায়

তীব্র দাবদাহের মাঝেই স্বস্তির খবর, দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখী ও ভারী বৃষ্টির সম্ভবনা

Super Saturday-তে ভোট প্রচারে মমতা-অভিষেক, কর্মসূচি শাহ-রাহুলেরও

‘‌বাংলায় বিজেপির জেতার কোনও ক্ষমতা নেই’‌, শহরের সন্ধ্যায় তোপ মমতার

রাতের শহরে নজরদারিতে আইপিএস অফিসাররা, ভোট মরশুমে কলকাতা পুলিশের কড়াকড়ি

প্রথম দফায় মহিলা ভোট পড়েছে ৯৩ শতাংশ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এফেক্ট বিশ্বাস তৃণমূলের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ